নবজাতক কে পৃথিবীর সাথে খাপ খাওয়াতে কিভাবে সাহায্য করবেন?

নবজাতক শিশু ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেয়। শিশু যত্ন, ভালোবাসা এবং মনোযোগ লাভের জন্য পুরোপুরি মায়ের উপর নির্ভরশীল। ছোট্ট শিশুর যত্ন এবং আরামের বিষয়টি মায়ের জন্য চ্যলেঞ্জিং। জন্মের পর প্রথম তিনমাস ছোট্ট শিশুর চাহিদা বোঝা এবং যে বিষয়গুলো মা ও শিশুর মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করবে তা একজন সবারই জানা জরুরী।

কান্না: এই বয়সে কান্না শিশুর ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। শিশু তার চাহিদা ও সমস্যাগুলো কান্নার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। তাই শিশুর কান্না নিয়ে মায়ের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে শিশুর অতিরিক্ত কান্না সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। শিশুর কান্নার প্রতি দ্রুত সাড়া দিলে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করে। American Academy of Pediatrics এর মতে, সময়মত শিশুর চাহিদা পুরন করা হলে তার কান্নার পরিমান ক্রমান্বয়ে কমে আসে।

newborn-baby-adjustment

ঘুম: নবজাতক সাধারণত দিনের বড় একটি অংশ ঘুমিয়ে কাটায়, বিশেষ করে প্রথম দিকের সপ্তাহে যখন সে দিন ও রাতের পার্থক্য করতে শিখে না। ৬-৮ সপ্তাহ বয়সে শিশু দিনের চেয়ে রাতে বেশি ঘুমায় তবে মাকে রাতে শিশুকে খাওয়ানোর জন্য বেশ কয়েকবার সজাগ হতে হবে।  প্রথম কয়েক সপ্তাহের পর নবজাতক কে দিন ও রাতের পার্থক্য শেখানো যায় এবং ধীরে ধীরে ঘুমের রুটিন করা যায়।

দিনের বেলা, ঘর আলোকিত রাখুন এবং হাউজহোল্ড নয়েজে পরিপূর্ন রাখুন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে, শান্ত শব্দহীন পরিবেশ এবং উজ্জ্বল আলোর পরিবর্তে ঘরে মৃদু আলোর ব্যবস্থা করুন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, একমাস বয়স থেকেই শিশুর বেড টাইম রুটিন করা সম্ভব। এজন্য ঘুমের সময় শিশুকে গান বা গল্প শোনানো যেতে পারে। অথবা গুডনাইট কিস!

গল্পবলা: ছোট্ট শিশুকে গল্প শোনানো হাস্যকর মনে হচ্ছে? তারপরও শোনান। শিশু মায়ের গলার স্বর শুনতে পছন্দ করে এবং এই শব্দ শোনা শিশুর ভাষা শিক্ষণের প্রথম ধাপ। ঘুমপাড়ানি গান এক ধরণের সঙ্গীত যা শিশুদেরকে দ্রুত ঘুমপাড়ানোর উদ্দেশ্যে গেয়ে শোনানো হয়। দুনিয়ার সব মায়েরাই শিশুদের ঘুমপাড়ানি গান শুনিয়ে থাকেন। ঘুমপাড়ানি গানের স্বাস্থ্যহিতকারী গুণ রয়েছে।

খাদ্যাভাস: নবজাতক প্রতিদিন ২/৩ ঘন্টা পর পর প্রায় ৮/১২ বার বুকের অথবা বোতলের দুধ খেয়ে থাকে। শিশুর পাকস্থলী যেহেতু খুব ছোট থাকে তাই অল্প খেলেই পেট ভরে যায় এবং সে ঘন ঘন খায়। অল্প কিছুদিনেই খাবারের পরিমান বাড়ে এবং ঘন ঘন খাবার গ্রহনের প্রবনতা কমে আসে।

নবজাতক কে সময়মত খাওয়ানোর ফলে শিশু তার যত্নের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় এবং সে নিরাপদবোধ করে। মিলটাইম শুধুমাত্র খাওয়ানোর নয় বরং শিশুর সাথে আদর বিনিময় ও বন্ডিং দৃঢ় করার উপযুক্ত সময়।

baby-care

বেড়ে ওঠা: জন্মের পর শিশু সম্পূর্ণ অসহায় থাকে এবং তার মুভমেন্টের উপর খুব অল্প নিয়ন্ত্রন থাকে। ধীরে ধীরে সে কিছু ধরতে শিখে। তার ঘাড় শক্ত হয় এবং মাথায় কিছুটা নিয়ন্ত্রন আসে। এবং একই সাথে তার অন্যান্য শারীরিক দক্ষতা বাড়তে থাকে।

ছোট্ট বয়স থেকে ডেইলি টামি টাইম (উপুড় করে ব্যায়াম করানো) নবজাতক শিশুর মাংসপেশির দৃঢ় করে। এতে শিশু বিভিন্নভাবে নড়াচড়া করতে পারে। যেমন- হাত নাড়াচাড়া, ধাক্কা দেয়া, মাথা তুলতে পারা, উভয় দিকে গড়ানো, বসতে পারা এবং হামাগুড়ি দেয়া ইত্যাদি। শিশুর টামি টাইম শুধুমাত্র জাগ্রত অবস্থায় হবে। চিত হয়ে শুয়ে ঘুমানো শিশুর ১২ মাস বয়স পর্যন্ত সবচেয়ে নিরাপদ ঘুমানোর পজিশন। এর ফলে SIDS বা Sudden Infant Death Syndrome এর ঝুঁকি কমে।

মাতৃগর্ভের মতো পরিবেশ: শিশুকে কাপড় দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সে মায়ের গর্ভে যেভাবে ছিল তেমন অনুভব করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই কিভাবে শিশুর সর্বোচ্চ আরাম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

baby-body-message

ম্যাস্যাজ: অধিকাংশ শিশুই ম্যাস্যাজ পছন্দ করে। এবং খুব মৃদু ভাবে ম্যস্যাজ শিশুর জন্য খুবই উপকারী। শিশু এবং মা উভয়ই এর মাধ্যমে রিলাক্স হতে পারে।

বেবি ক্যারিয়ার: বাহিরে কিংবা ঘরের টুকিটাকি কাজের সময় ক্যারিয়ার ইউজ করা উচিত। এর ফলে বাচ্চাকে সার্বক্ষণিক কোলে রাখতে হয় না। বহনকারীর হাত দুটো ফ্রি থাকে। অপরদিকে হঠাৎ করে কোল থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে না। বাচ্চা মায়ের শরীর ঘেষে থাকে। মায়ের শরীরের উষ্ণতা শিশু এবং মায়ের মধ্যকার সম্পর্ক আরো উন্নত করে থাকে।

ইশরাত
শিশুবিকাশ ও সামাজিক সম্পর্কের শিক্ষার্থী।
ইনস্টিটিউট অব হোম ইকনমিকস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply