শিশুর গায়ে হাত তোলাকে ‘না’ বলুন

শিশুদের মনো জগত বিস্ময়কর। এই হাসি, এই কান্না আবার এই রাগ। অনেক সময়ই তা অভিভাবকদের পক্ষে সামলে ওঠা মুশকিল। কিন্তু শিশুর দুষ্টুমির কারণে তাকে মার ধর করা কখনোই আদর্শ প্যারেন্টিং নয়।

শিশুর সুস্থ বিকাশে তার প্রতি স্নেহশীল থাকতে হবে সব সময়। আমাদের মনে রাখতে হবে শিশু কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নয়। তার বিচার, বিবেচনা ও কার্যক্রম তাই শিশুতোষই হবে। অনেক সময়ই দেখা যাবে শিশু কিছু ক্ষতিকর কাজ করে ফেলছে। ধরা যাক – বাবা, মায়ের দামী মোবাইল ফোন সেটটি নিয়ে খেলতে খেলতে তা সে জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দিলো। এটি নি:সন্দেহে একটি ক্ষতিকর কাজ। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনো অপরাধেই শিশুর গায়ে হাত তোলা ঠিক হবে না। এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিশুর অভিভাবকের।

শিশুকে বড় করতে হবে ভয়হীন সংস্কৃতির ভেতর। এটি শুধু বাসায় নয়। শিশুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এটি নিশ্চিত করতে হবে। সব ধরণের ভয় ভীতি মুক্ত শিশুর বিকাশ তার স্বার্থেই জরুরি। শিশু ক্ষতিকর কাজ করে ফেললেও তাকে তার ভাষায় বোঝাতে হবে। ক্ষতিকর করার জন্য যে সে নিজে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এমন কথা তাকে বলতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আর যেন এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে সে কথাও মনে করাতে হবে বারবার। কিন্তু রাগের বশে শিশুর গায়ে হাত তোলা বা মারধর করা কোনো সমাধান নয়।

যে সব শিশু শৈশবে মা, বাবা অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের বিকাশ সুস্থ হতে পারে না। তারা সারা ক্ষণই ভুগবে হীনমন্যতায়। তাদের মনের মধ্যে কাজ করবে আতঙ্ক। সব কিছু নিয়ে তারা ভুগবে দ্বিধায়। এমন কী ভালো কাজের স্পৃহাও হারিয়ে ফেলতে পারে শিশু। এ বিষয়ে তাই শিশুর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতনতা জরুরি। তাদের বুঝতে হবে প্রহার কোনো সমাধান না। এটি বরং শিশুর প্রতি ঘৃণা ও রাগের অবাঞ্চিত প্রকাশ। যিনি শিশুর গায়ে হাত তুলে থাকেন, তিনি নিজেই কিছু মুহূর্ত পর এ নিয়ে অনুশোচনা ভুগে থাকেন।

শিশুর আনন্দ ময় বিকাশের স্বার্থেই তার গায়ে হাত তোলার মতো গর্হিত কাজ থেকে নিরত থাকতে হবে। স্বর্গের আর্শিবাদ তুল্য সন্তানের ভবিষ্যত বিবেচনায় রেখে সবার এটি মনে রাখা জরুরি।