গাছের সাথে শিশুর মিতালী

‘বৃক্ষবন্দনা’ কবিতায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন,

“প্রাণের প্রথম জাগরণে তুমি বৃক্ষ আদি প্রাণ . . .”

প্রাণের আদি পর্ব যে বৃক্ষ থেকে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই গাছ প্রকৃতির পরম সম্পদ। বৃক্ষহীনতায় পৃথিবীর যত সর্বনাশ। আজকের দিনে আমাদের গ্রহের জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণায়ন বৃদ্ধি, অতি খরা, অতি বৃষ্টি একের পর এক প্রাকৃতিক দূর্যোগ আসার প্রধান কারণ গাছের প্রতি অবিচার। মানুষের সভ্যতা যত এগিয়েছে তার দায় নিতে হয়েছে জীবন্ত সত্ত্বা গাছকে। আজকের পৃথিবীর বহু সমস্যার সমাধান সম্ভব গাছের মাধ্যমে। কিন্তু এর জন্য চাই গাছের পক্ষে একটি শুদ্ধ মন।

আমরা এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস করছি ফ্ল্যাট বন্দি জীবনে। গাছ, প্রকৃতি থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন। আমাদের শিশুদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খুব শৈশবেই তাই দরকার শিশুর মনে গাছের প্রতি মমত্ববোধ সৃষ্টি।

ঘরের মধ্যে রাখা যায় এমন ধরণের ইনডোর প্ল্যান্ট আছে বহু। অনেকে বারান্দায় গাছ বড় করেন। কারও আছে ভবন শীর্ষে ছাদ বাগান।

একটি শিশুকে প্রাথমিক পর্যায় থেকে এই গাছের সঙ্গে বড় করলে তার মানবিক বিকাশ হবে ভিন্ন ধরণের।

অধিকাংশ শিশুর দিনের বড় একটি সময় কাটছে এখন নানা গ্যাজেট হাতড়ে। এটি ছোট্ট মণির দেহ ও মনো জগতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। এর সমাধান হতে পারে গাছের সঙ্গে তার মিতালী স্থাপন।

এখন যৌথ পরিবার ভেঙে গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাবা, মা কর্মজীবী। তারা সকালে অফিসে চলে যান। ঘরের শিশুটির তাই কিছু করার থাকে না। সে বড় হচ্ছে বাড়ির গৃহ পরিচারিকার হাতে। এমন শিশুর জন্য অভিভাবকদের আছে অনেক কিছু করণীয়। ঘরের গাছের দায়িত্ব শিশুর ওপর দিলে সেটি শিশুর জন্য দারুণ হবে। সে নিজেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনে করবে। ভবিষ্যতের জীবনে সবুজের বন্ধু হয়ে উঠবে এই শিশু।

এ তো গেল ঘরের গাছের দায়িত্ব শিশুকে দেয়ার বিষয়। এর বাইরেও আমরা নানা ভাবে শিশুকে গাছ মুখী করতে পারি। ঢাকা শহরে ওসমানী উদ্যান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক ও মিরপুর বোটানিক্যালের মতো কিছু উদ্যান এখন গাছ বহুল। এ সব জায়গায় শিশুকে বেড়াতে নিয়ে গেছে সে মুগ্ধ হবে। সেখানে গাছের বিবরণ ও গাছ সম্পর্কীত নানা তথ্য পাওয়া যায়। শিশুর ভাষা তা বোঝানোর দায়িত্ব বড়দের। শিশুর মনোজগতে গাছের বিস্তার এভাবে তাকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

প্রাণি জগতে মানুষই সর্বেসর্বা নয়। গাছের প্রাণ আছে। এটি প্রাণ প্রকৃতি ও মানুষের পরম বন্ধু –    এমন বাস্তব বিজ্ঞানে শিশুকে বড় করা একটি যৌক্তিক প্যারেন্টিং হিসেবে বিবেচিত হবে অবশ্যই।